নিজস্ব প্রতিবেদক
আলমগীর কবীর হৃদয়, স্টাফ রিপোর্টার:
মানিকগঞ্জ শহরের শহীদ রফিক সড়কের ২০১ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা মো. ওমর হোসেন (৪৮) নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর আরিচা ঘাট এলাকা থেকে তার সন্ধান পাওয়া গেছে। গত ৫ অক্টোবর নিখোঁজ এর বড় ভাই ও বন্ধুদের অনুসন্ধানের একপর্যায়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়। তবে দীর্ঘদিনের অযত্ন ও অবহেলায় তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে দাবি করেছে বড় ভাই।
ওমর হোসেনের বড় ভাই এর সূত্রে জানা যায়, ওমর হোসেন গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে একটি রিহ্যাব সেন্টার থেকে ছাড়ার পর নিখোঁজ হন। পরিবারের অভিযোগ, তাকে বাড়িতে না নিয়ে ওমর হোসেনের বোন তাকে রাস্তায় একা ছেড়ে দেয়। এরপর থেকে তার কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
ওমর হোসেন আনোয়ার হোসেন ও রাশেদা বেগমের তৃতীয় সন্তান। তিনি অবিবাহিত। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ১৪ মার্চ পর্যন্ত তিনি পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরিবারের দাবি, তিনি সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে প্রায় ছয় মাস পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করেন।
ওমর হোসেনের বড় ভাই মো. হাবিবুর রহমান স্বপনের অভিযোগ, পরবর্তীতে চিকিৎসার কথা বলে তার ছোট ভাইকে মানিকগঞ্জ ও ধামরাইয়ের বিভিন্ন রিহ্যাব সেন্টারে রাখা হয়। এক রিহ্যাব সেন্টার থেকে অন্য রিহ্যাব সেন্টারে তাকে স্থানান্তর করা হতো। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিবারের স্বাভাবিক পরিবেশের বাইরে ছিলেন।
হাবিবুর রহমান স্বপন জানান, তিনি দীর্ঘদিন মানিকগঞ্জের বাইরে থাকায় ছোট ভাইয়ের চিকিৎসা ও দেখাশোনার বিষয়টি তার ছোট বোন জমিলা আক্তার দেখভাল করতেন। তার অভিযোগ, পরিবারের অন্য সদস্যদের না জানিয়ে ওমর হোসেনের জমির অংশ গোপনে লিখে নেওয়া হয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। স্থানীয় পৌর ভূমি অফিস থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে তার ছোট বোন জমিলা আক্তার একটি রিহ্যাব সেন্টার থেকে ওমর হোসেনকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। কিন্তু তাকে নিজ বাড়িতে না নিয়ে রাস্তায় একা ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
ওমর হোসেন নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে তার বন্ধু মহল ও তার বড় ভাই এর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে সাপ্তাহিক বাঁশপত্র,দৈনিক টেন স্টার বিডি টোয়েন্টিফোর,গণচিঠি,এম আর নিউজ সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাকে খুঁজে পেতে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপকভাবে অনুসন্ধান শুরু হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ অক্টোবর পাবনা থেকে মানিকগঞ্জে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে তার বড় ভাই হাবিবুর রহমান স্বপন বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেন। একপর্যায়ে ৫ অক্টোবর আরিচা ঘাট এলাকায় ওমর হোসেনের সন্ধান পাওয়া যায়।
হাবিবুর রহমান স্বপন বলেন, দীর্ঘদিন পর ছোট ভাইকে দেখে প্রথমে তিনি তাকে চিনতেই পারেননি। অযত্ন-অবহেলায় তার চেহারায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে এবং তাকে বয়সের তুলনায় অনেক বেশি বয়স্ক মনে হচ্ছিল। তার ভাষ্য, নিখোঁজ থাকার সময় তিনি কোথায় ছিলেন এবং কীভাবে ছিলেন, তা নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
ওমর হোসেনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তার বড় ভাই বলেন, তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে কী ঘটেছে, কেন তাকে এমন অবস্থায় পাওয়া গেল এবং তার সম্পত্তি নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এ ঘটনায় ওমর হোসেনের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন তার বড় ভাই হাবিবুর রহমান স্বপন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তবে জমি লিখে নেওয়া, রিহ্যাব সেন্টার থেকে ছাড়ার পর রাস্তায় রেখে যাওয়া এবং অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।